ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানা প্রায় ৩৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেন। পরবর্তীতে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শুভংকর কর্মকার ও বদর উদ্দিন।
বিজয় নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
রুমিন ফারহানা: প্রথমেই মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি আমাকে দৃঢ় থাকার শক্তি দিয়েছেন। আমার এলাকার নেতা–কর্মী এবং আসনের সব ভোটারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাকে সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন, অর্থ ও শ্রম দিয়ে পাশে থেকেছেন। অনেকেই দিন–রাত পরিশ্রম করেছেন, ঠিকমতো বিশ্রামও নিতে পারেননি। এই বিজয় শুধু আমার নয়; এটি আমার নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের সম্মিলিত অর্জন। এমনকি যারা আমাকে ভোট দেননি বা সমালোচনা করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞ। কারণ তাঁদের আচরণ অনেক সাধারণ মানুষকে আমার পক্ষে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছে। আমার আসনের প্রায় পাঁচ লাখ ভোটারের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
ভোট নিয়ে আপনার সন্তুষ্টি কতটা?
রুমিন ফারহানা: আমার মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তা ছাড়া এই এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হতো না। প্রশাসনের আচরণ শুরু থেকেই আমার প্রতি সহায়ক ছিল না; বরং নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অসহযোগিতা ছিল। বিএনপি জোটের কর্মীদের আইন ভঙ্গের অভিযোগ থাকলেও অনেক সময় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে আমি সেনাবাহিনীকে জানিয়েছি, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশও সহযোগিতা করেছে। কেউ আমার কাছে কোনো অনৈতিক সুবিধা চাননি, আমিও কাউকে কিছু দিইনি।
বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ভোটে কী প্রভাব ফেলেছে?
রুমিন ফারহানা: আমার মনে হয়, এতে ইতিবাচক প্রভাবই পড়েছে। গত ১৮ মাসে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে যে আলোচনা ছিল, দলীয় প্রার্থী হলে সেই দায় আংশিকভাবে আমার ওপরও আসতে পারত। আমি অনেক বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনাও করেছি। ফলে দল মনোনয়ন না দেওয়া আমার জন্য এক অর্থে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তিগত কাজ, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং এলাকার মানুষের আস্থার ওপর ভিত্তি করেই আমি এই জয় পেয়েছি। বিএনপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকাটা নির্বাচনে আমার জন্য সুবিধাজনক হয়েছে বলে মনে করি।
