ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্টিভ উইটকফের তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এর কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ একটি নৌবহর মোতায়েন করেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অগ্রহণযোগ্য’ আচরণের কথা জানাল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা
কফর কিলা এলাকার কাছে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর নজরদারি চালায় একটি সশস্ত্র ড্রোন। পরে ড্রোনটি জাতিসংঘ বাহিনীর অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে একটি স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
ইউনিফিল (UNIFIL) এক বিবৃতিতে জানায়, “সৌভাগ্যক্রমে কেউ আহত হয়নি এবং টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।” সংস্থাটি জানায়, আজ সকালের এই ঘটনা নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ১৭০১ লঙ্ঘন করে ব্লু লাইন অতিক্রমের শামিল।
ইউনিফিল আরও বলেছে, “সশস্ত্র ড্রোনের এ ধরনের ব্যবহার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা [ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে] আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি—ব্লু লাইনের প্রতি সম্মান জানানো, শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর বা আশপাশে হামলা বন্ধ করা তাদের বাধ্যবাধকতা।”
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “এ ধরনের [ইসরায়েলি সামরিক] পদক্ষেপ প্রস্তাব ১৭০১ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটি জাতিসংঘের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে এবং ব্লু লাইন এলাকায় স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।”
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ব জেরুজালেম দখল (সংযুক্ত) করার লক্ষ্য সরকারের
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের একটি বড় অংশের ভূমি ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিবন্ধনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র “ভূমির মালিকানা অধিকার নির্ধারণ ও চূড়ান্ত করে এবং তা রাষ্ট্রীয় ভূমি রেজিস্ট্রিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করে।” সংস্থাটির মতে, এটি পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল ও ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের একটি প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
প্রস্তাবনায় নতুন বাজেট বরাদ্দ, সরকারি জনবল বৃদ্ধি এবং কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের অধীনস্থ ‘অনুপস্থিত সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক’ দপ্তরের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা “এই প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।”
ইর আমিম (Ir Amim) আরও বলেছে, “এটি গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং পূর্ব জেরুজালেমে ব্যাপক ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ দ্রুততর করার সরকারের অভিপ্রায় স্পষ্ট করে তোলে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য অভূতপূর্বভাবে উচ্ছেদ ও ভূমিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।”
রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা ফিলিস্তিনিদের ট্রমা আরও বাড়াচ্ছে: আইসিআরসি (ICRC)
তিনি বলেন, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ফিলিস্তিনিদের জন্য “অসহনীয় ট্রমা” আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গ্রিফিথস জানান, বিদেশে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্ত দিয়ে কারা গাজা ছাড়তে পারবেন—সে রোগীদের নির্বাচন করার দায়িত্ব আইসিআরসি (ICRC)-এর নয়।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সুরক্ষিত মানুষ হিসেবে আমরা কেবল তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারি। দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা, যাতে তাদের প্রয়োজনগুলো পূরণ হয়।”
আইসিআরসির মুখপাত্র আরও বলেন, গাজায় সাম্প্রতিক কাজের সময় তিনি যেসব ফিলিস্তিনির সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন—যদিও তারা জানেন যে “পুনরুদ্ধারের পথটি হবে দীর্ঘ ও কঠিন।”
